Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ জুন ২০১৯

মহাপরিচালকের জীবনবৃত্তান্ত

   জনাব সুশান্ত কুমার সাহা ১৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৬২ খ্রি. মানিকগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফিন্যান্স বিষয়ে ১৯৮২ সালে স্নাতক এবং ১৯৮৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) এর মহাপরিচালক পদে কর্মরত আছেন। এর পূর্বে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও সমন্বয় এবং বিধি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

   বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থবিভাগের আর্থিক বিধি-বিধান প্রণয়নে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া আইসিটি বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তিনি আইটি/আইটিইএস সৃষ্টিপ্রজেক্ট, প্রোগ্রাম প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং নীতিমালা প্রণয়নে নিয়োজিত ছিলেন।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এসকল প্রজেক্ট ও প্রোগ্রামগুলো ছিল খুবই উপযোগী।তিনি ২০১০ থেকে ২০১২ পর্য়ন্ত মাগুরা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ড এবংগুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন করাও ছিল তার দায়িত্ব।বিভিন্ন ধরণের সরকারি সেবা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে  গোড়ার দিকে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব থেকে মাগুরা জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

 

    জনাব সুশান্ত কুমার সাহা বিসিএস ৮৫ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮খ্রি. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পর্যায়ক্রমে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক (রেভিনিউ), ডেপুটি কালেক্টর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিবপদে; টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগে যুগ্মসচিব (প্রশাসন), অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং (আইসিটি) পদে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, গণশিক্ষা কার্যক্রম, গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মাগুরা জেলায় সর্বপ্রথম ই-ফাইলিং প্রচলন এবং মাগুরা জেলায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি মাগুরা জেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সিআরপিসি, বিপিসিসাক্ষ্য আইন এবং ভূমি আইন সম্পর্কে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে।

 

   তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ ‘বেসিক’ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে  প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। চাকুরিকালে তিনি আইন ও প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, ই-গভর্মেন্ট লিডারশীপ, নেগোসিয়েশন দক্ষতা, আর্থিক ও বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারী ক্রয় ব্যবস্থা, ই-প্রকিউরমেন্ট, প্রশাসন ও উন্নয়নের উপর এডভান্সকোর্স, ম্যানেজমেন্ট এট টপ (এমএটিটি), সিনিয়র স্টাফ কোর্স, ও ম্যান আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সরকারি সেবা সহজীকরণ তথা উদ্ভাবন তার আগ্রহের বিষয়।

 

    তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের বার্ষিক সভায় জেনেভা, ওরাকল এক্সিকিউটিভ সামিট সানফ্রান্সিসকো, ফিউচার গভর্মেন্ট সার্ক সামিট শ্রীলংকা, এসকাপ এপিসি আইসিটি ব্যাংকক, সার্ক ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং নয়াদিল্লী, মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস চীন, ডব্লিউটিও ইত্যাদি সেমিনার ও ওয়ার্কশপে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তিনি এমপাওয়ারিং রুরাল কমিউনিটিস রিচিং দা আনরিচ প্রজেক্টে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে সার্ক উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাপ্রদান কেন্দ্র প্রকল্প যা বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল এবং মালদ্বীপে বাস্তবায়িত হয়। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইসমূহ ডিজিটাল ও ইন্টারএকটিভ তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

    এছাড়া তিনি দাপ্তরিক কাজে ভারত, শ্রীলংকা, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, চীন, সিংগাপুর, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, দক্ষিণকোরিয়া, হংকং, অস্ট্রেলিয়া ও কিরজিগিস্তান সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

 

 

 

 


Share with :

Facebook Facebook